বিপাকে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স উদ্যোক্তারা
কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে গত ১৭ জুলাই রাতে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১৮ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
পাঁচদিন পর সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হলেও মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয় ১১ দিন পর। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখনও বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ই-কমার্স, এফ-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেট নির্ভর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা।
ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের ব্যবসা অনলাইন নির্ভর হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এই দুই খাতের কয়েক লাখ উদ্যোক্তা। একইসঙ্গে এ ধরনের ব্যবসার প্রচারণা ফেসবুক নির্ভর হওয়ায় ইন্টারনেট চালু হবার পরও উদ্বেগ কমেনি উদ্যোক্তাদের মধ্যে।
ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ হাজার অর্ডার পায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আজকেরডিল। ইন্টারনেট না থাকার কারণে সেটা নেমে এসেছে দুই হাজারে।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) হিসাব অনুযায়ী, ফেসবুকে ৫ লাখেরও বেশি ব্যবসায়ীর নিজস্ব ব্যবসায়িক পেজ রয়েছে। গত ১১ দিনে, এই খাত প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ই-ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন, ডিজিটাল সেবা খাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কাজ করেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ এবং নারী। ইন্টারনেটের এই বিপর্যয় ই-কমার্স, এফ-কমার্স, লজিস্টিকস, ই-ট্যুরিজম এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।তিনি আরও বলেন, ই-কমার্স লজিস্টিকস প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ পণ্য সরবরাহ করে। বর্তমান বিপর্যয়ের কারণে এই সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা। এই খাত পুরোটা ইন্টারনেটনির্ভর হওয়ায় অনেক কাজ সময়মতো গ্রাহককে বুঝিয়ে দিতে পারেননি এ খাতের উদ্যোক্তারা। যে কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান বলেন, গত কয়েক দিনে ১২০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং খাতে। কিন্তু আগামী তিন মাসে এ ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্টারনেট না থাকায় যথাসময়ে বায়ারদের কাজ ডেলিভারি করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ইন্টারনেট ফেরত আসার পরও তা সম্ভব হচ্ছে না ধীরগতির কারণে।
তানজিবা রহমান বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ মূলত তিন ধরনের হয়। ডিজিটাল, ওয়েব ও গ্রাফিক্স। সফটওয়্যারগুলোতে হাই-রেজুলেশন পিক্সেল লোড নিচ্ছে না। যে কারণে ক্লায়েন্টের কমপ্লেইন অনুযায়ী সেটা অন-টাইম সমাধানও করে দেয়া যাচ্ছে না। কমিউনিকেশন ঠিক না থাকায় ক্লায়েন্ট নতুন করে কাজ দেবার আগে কয়েকবার ভাববে। এই সম্পর্ক ঠিকঠাক করা- অনেক কঠিন হবে।
বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অনলাইন নির্ভর ওটিটিসহ বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোও। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দীপ্ত প্লে’র হেড অব ডিজিটাল মিডিয়া মোহাম্মদ আবু নাসিম বলেন, আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় এই কয়েক দিনে ৭০-৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ওটিটির একটি বড় মাধ্যম হলো ফেসবুক। আর ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দর্শকের আগ্রহ বেশি পেয়ে থাকি। ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আগের অবস্থায় ফিরে না এলে, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

মতামত দিন