ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুললো বাংলাদেশ
ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুললো বাংলাদেশ। ১৯৮ রানের পুঁজি নিয়েও ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছে যুবারা। যার নেতৃত্বে ছিলেন ইকবাল হোসেন ইমন, আল ফাহাদ ও আজিজুল হাকিম তামিমরা।এক নজরে দেখে নেয়া যাক, লাল সবুজদের জয়ের ৫ টার্নিং পয়েন্ট।
এক. টপ অর্ডারকে সুযোগ না দেয়া:
রান তাড়ায় নেমে ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেনি ভারতের টপ অর্ডার। ওপেনার আয়ুশ এমহার্তেকে (১) আল ফাহাদ বোল্ড করার পর বৈভব সূর্যবংশীকে (৯) সাজঘরের পথ দেখান মারুফ মৃধা। ক্রিজে কিছুটা সময় পেয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন টপ অর্ডারের শেষ ব্যাটার আন্দ্রে সিদ্ধার্থ। তবে তাকে সময়মতো সাজঘরে ফিরিয়ে দলকে স্বস্তি দেন রিজান হাসান। ৩৫ বলে ২০ রান করা এ ব্যাটারকে বোল্ড করেন রিজান। শুরুর ধাক্কাটাই ম্যাচে ভারতকে চাপে ফেলে দেয়।
দুই. ২১ ও ২৩তম ওভারে ইকবাল হোসেন ইমনের ৩ উইকেট শিকার:
ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল ৩ ওভারের মধ্যে ইমনের ৩ শিকার। শুরুর ধাক্কা সামলে কেপি কার্তিকেয়া ও মোহাম্মদ আমান ভারতের হাল ধরেছিলেন। আর কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো জয়ের ভিতও গড়ে নিতেন। কিন্তু সময়মতো ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ইমন। ২১তম ওভারের তৃতীয় বলে গতি আর সুইংয়ে পরাস্ত করে কার্তিকেয়াকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ৪৩ বলে ২১ রান করেন এ ব্যাটার। দুই বল পরই একইভাবে আউট হন নিখিল কুমার (০)। বিপর্যয়ে পড়ে ভারতীয় শিবির। এরপর ২৩তম ওভারে ফের আক্রমণে এসে হারভানশ পাঙ্গালিয়াকেও (৬) সাজঘরের পথ ধরিয়ে ভারতের কোমরই ভেঙে দেন ইমন।
তিন. মাত্র ২.২ ওভার বল করে আজিজুল হাকিম তামিমের ৩ শিকার:
৯ বলে ১ রান করে আল ফাহাদের বলে কিরন চোরমালে আউট হওয়ার পর আমানের সঙ্গ নিয়ে দারুণ ব্যাট করছিলেন হার্দিক রাজ। ৩২তম ওভারে আক্রমণে এসে তাদের জুটি ভেঙে দেন তামিম। ৬৫ বলে ২৬ রান করে ক্রিজ আঁকড়ে রাখা ভারতীয় অধিনায়ককে বোল্ড করেন তিনি। এক ওভার পর আক্রমণে এসে প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করা হার্দিককে এলবিডব্লিউ করেন তামিম। এরপর ৩৬তম ওভারে আক্রমণে এসে আউট করেন চেতন শর্মাকে (১০)। সবমিলিয়ে মাত্র ২.২ ওভার বল করে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয় আগেভাগেই নিশ্চিত করেন যুবাদের অধিনায়ক।
চার. চাপের মুহূর্তে ফরিদ হাসানের ৪৯ বলে ৩৯ রান:
বাংলাদেশের দারুণ জয়ে বোলারদের ভূমিকাটা বেশি হলেও, লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কয়েকজন ব্যাটারও। বিপর্যয়ের মুহূর্তে সাত নম্বরে নেমে ৪৯ বলে ৩ চারের মারে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি ফরিদ হাসান না খেললে জয়ের জন্য পর্যাপ্ত পুঁজিই পেত না বাংলাদেশ।
পাঁচ. মোহাম্মদ শিহাব জেমস ও রিজান হাসানের চতুর্থ উইকেটের জুটি:
৬৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ শিহাব জেমস ও রিজান হাসান। দুজনের জুটিতে ৬৬ রান থেকে ১২৮ রানে পৌঁছে যায় লাল সবুজরা। লড়াইয়ের পুঁজি পেতে ফরিদের আগে শিহাবের ৬৭ বলে ৪০ আর রিজানের ৬৫ বলে ৪৭ রানের ইনিংস দুটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল প্রথম শিরোপা জেতে যুবারা। ওই আসরে অবশ্য সেমিফাইনালেই ভারতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল লাল সবুজদের। সেমিফাইনাল বাংলাদেশ জিতে নিয়েছিল ৪ উইকেটের ব্যবধানে।

মতামত দিন